তড়িৎ রাসায়নিক কোষ
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ
সহজ কথায়, তড়িৎ রাসায়নিক কোষ কী?
এটা এমন একটা সিস্টেম বা সেটআপ, যেখানে রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে অথবা বিদ্যুৎ শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়।
এই কোষের দুটো প্রধান অংশ থাকে:
- তড়িৎদ্বার (Electrode): দুটো বিশেষ রড (সাধারণত ধাতু বা গ্রাফাইটের তৈরি), যা দিয়ে বিদ্যুৎ ভেতরে
ঢোকে বা বাইরে বেরিয়ে যায়। এদেরকে অ্যানোড (Anode) আর ক্যাথোড (Cathode)
বলে। - তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Electrolyte): একটা বিশেষ তরল বা পেস্ট, যার মধ্যে তড়িৎদ্বার দুটোকে ডুবিয়ে রাখা হয়। এই তরলের মধ্যেই আসল রাসায়নিক বিক্রিয়াটা ঘটে।
এই তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বা বন্ধুত্বের খেলাটা মূলত দুই ধরনের হয়।
১. তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ (Electrolytic Cell) - যে শক্তি ব্যবহার করে
ভাবতে পারো এটা এমন একটা যন্ত্র, যাকে কাজ করানোর জন্য বাইরে থেকে "প্লাগ ইন" করতে হয়।
এখানে রাসায়নিক বিক্রিয়াটা নিজে নিজে হতে চায় না। তাই আমরা বাইরে থেকে বিদ্যুৎ শক্তি পাঠিয়ে জোর করে একটা রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটাই।

বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
- গোল্ড প্লেটিং: রুপার গহনার ওপর সোনার প্রলেপ দেওয়া হয় না? ওটা এই কোষ ব্যবহার করেই করা হয়। বিদ্যুৎ পাঠিয়ে সোনাকে রুপার ওপর জমা করা হয়।
- ধাতু নিষ্কাশন: অনেক খনি থেকে পাওয়া অশুদ্ধ ধাতু বিশুদ্ধ করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
২. গ্যালভানিক কোষ (Galvanic Cell) - যে বিদ্যুৎ শক্তি বানায়
এটাকে বলা যেতে পারে একটা ছোট্ট "পাওয়ার জেনারেটর"।
এখানে রাসায়নিক পদার্থগুলো নিজে নিজেই বিক্রিয়া করে আর তার ফলে বিদ্যুৎ শক্তি তৈরি হয়।

বাস্তব জীবনের উদাহরণ:
আমাদের বাসার টিভির রিমোট, খেলনা গাড়ি বা দেয়ালঘড়ির ব্যাটারিগুলোই হলো গ্যালভানিক কোষ। ব্যাটারির ভেতরে থাকা কেমিক্যালগুলো বিক্রিয়া করে বলেই রিমোট কাজ করে, খেলনা গাড়ি দৌড়ায়।
বিদ্যুৎ কীভাবে চলাচল করে? (বিদ্যুৎ পরিবাহী)
আচ্ছা, বিদ্যুৎ যে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যায়, সেটা কীভাবে যায়?
বিদ্যুত মূলত এক যায়গা থেকে আরেক যায়গায় ইলেক্ট্রন আকারে যায়। তারমানে ইলেক্ট্রনের চলাচলটাই হচ্ছে বিদ্যুত প্রবাহ। (আরে ইলেক্ট্রন থেকেই তো ইলেক্ট্রিসিটি কথাটা আসছে, তাই না?!)
যাদের মধ্যে দিয়ে ইলেক্ট্রনগুলো যায়, তাদের বলে বিদ্যুৎ পরিবাহী (Conductor)। এরাও আবার দুই ধরনের হয়।
ক) ইলেকট্রনীয় পরিবাহী (Electronic Conductor):
এরা হলো সলিড পরিবাহী, যেমন - লোহা, তামা, রুপার মতো সব ধাতু। এদের ভেতর দিয়ে শুধু ইলেকট্রন দৌড়ে চলে যায়, কিন্তু পরিবাহীটার কোনো পরিবর্তন হয় না। অনেকটা হাইওয়ের মতো, যার ওপর দিয়ে গাড়ি
(ইলেকট্রন) চলে যায় কিন্তু রাস্তা একই থাকে।
খ) তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Electrolyte):
এরা সাধারণত তরল হয়, যেমন - লবণ মেশানো পানি, অ্যাসিড ইত্যাদি। এরা বিদ্যুৎ পরিবহন করার সময় নিজেরা ভেঙে যায় এবং রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত হয়।
কঠিন অবস্থায় কিন্তু এরা বিদ্যুৎ পরিবহন করে না, শুধু গলিত বা পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় করে।
এক নজরে:
- গ্যালভানিক সেল = বিক্রিয়া → বিদ্যুৎ (বিক্রিয়া নিজে থেকে হয়)
- তড়িৎ বিশ্লেষণ কোষ = বিদ্যুৎ → বিক্রিয়া (বিদ্যুৎ দিয়ে জোর করে বিক্রিয়া করাতে হয়)